পৃষ্ঠাসমূহ

গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০১০

হাউজ দ্যাট!

সকালের মেঘাচ্ছন্ন মাঠ আর কর্দমাক্ত আকাশ। এরকম কঠিন পরিস্থিতিতে নটআউট থাকা সহজ কথা না। সেট হয়েও কত ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যায়! কিন্তু তাকে আউট করা যাচ্ছে না। একেবারে ঘাম ছুটিয়ে ছাড়ছে বলা যায়।

লাঞ্চে গেলেন নটআউট অবস্থায়।

এদিকে ক্যাপ্টেনের চিন্তিত মুখ, কপালের পাশে ঘামের চিকন রেখা। এর ওর কাছ থেকে টিপস নিচ্ছেন কীভাবে এই শক্ত লাইনআপকে লুজ মোশনের মত ঝেড়ে ফেলা যায়। বারবার পজিশন বদলেছেন, বিভিন্নভাবে কয়েকবার চাপ সৃষ্টি করেছেন- কিন্তু যে লাউ সেই কদু। ফাস্ট, স্পিন, মিডিয়াম, স্লো, রাউন্ড দ্য উইকেট, কোনোটাতেই কাজ হচ্ছে না।

মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১০

পোলারয়েড

রিকশার টুংটাং শব্দ গলিয়ে দিয়ে যায় শহরের কঠিন হৃদয়। ঘর্মাক্ত ওভারব্রীজে হঠাৎ বাতাসে বিদ্রোহী হয় একটা হলুদ ব্যানার, ফুটপাতে নেমে নাচতে থাকে দেয়ালের কালো কালো অক্ষরগুলো। মাথার উপরে সূর্য দ্রুত লজ্জা ঢাকে মেঘের আঁচলে। দিনে দুপুরে আলোর অন্ধকারে খসে পড়ে একটা ছুটন্ত তারা, পৃথিবী রোদচশমা চোখে দেখে লাল গ্রহ, শনির বলয় তার রং বদলায়। বকুল ফুলের মত মুহূর্তে ঝরে পড়ে বাঁচার আকুল চেষ্ঠা, জীবিকার সঞ্চয়। একটা ঝিনুক পেটের টিউমারে যোগ করে আরেকটা বালিকণা, একটা রেণু খুঁজে পায় অন্য পরাগ। ছেলেটা বুকে শিশির নিয়ে মেয়ের হাতে তুলে দেয় একটা ন্যাতানো গোলাপ, মেয়েটার গালে জমাট বাঁধে গোধূলির মেঘ, কৃষ্ণচূড়ার দল, আর ডালিমের রং।

বিধাতা এদের ভাগ্যে কি রেখেছেন তা জানতে শহরের মাথার উপর দিয়ে সহসা পরীর মত উড়ে যায় একটি ছোট্ট তোতাপাখি।

প্রত্যাখান

ফরিদার আত্মহত্যার খবরে আমার ঘুম ভাঙ্গে আজ ভোরে।

ফরিদা আর আমি একই পাড়ায় থাকি, সেই হিসেবে আমি ওকে চিনি ছোটোবেলা থেকেই। আমাদের বাড়ির সামনে উঁচু বড় রাস্তা, সেটা পাড় হয়ে আবার নেমে গেলেই কালামদের বাঁশঝাড়, মোস্তফাদের পুকুর, তার পরপরই ফরিদার বাপচাচার ভিটা। ওদের বাড়ির সামনে ঈদগা মাঠেই ওর সাথে আমার প্রথম পুতুল খেলা।

ফরিদা আমার বছর দুয়েকের ছোট হবে, মানে বেঁচে থাকলে সবসময় তাই হত। পুতুলখেলা ছেলেদের খেলা নয়- এটা জানার আগে ফরিদাই ছিল আমার খেলার সঙ্গী। এরপর আর কোনোদিন আমার ফরিদার সঙ্গে ঘর করা হয়নি।

চক্র

মানুষের জীবন কী কেবলই একটা দীর্ঘ সরলরেখা, নাকি অনেকগুলো চক্রের সমাহার?

অফিস থেকে ফিরে কাপড় না বদলিয়েই বারান্দায় চেয়ারটা টেনে নিয়ে এতদিন লুকিয়ে রাখা বেনসনে তীব্র একটা টান দিতে দিতে রফিক এই প্রশ্নটার উত্তর খুঁজছিল।

মাঝে মাঝে মনে হয় প্রতিটা দিনই এক একটা চক্র, ভোর ছ'টায় উঠে বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসা, তারপর নিজের চাকরি, মিটিং, এই ফাইল থেকে সেই ফাইল, লাঞ্চ, আবার মিটিং, ফাইল থেকে ফাইল, ভেন্ডিং মেশিনের কফিতে এক্সট্রা সুগার এক্সট্রা ক্রীম, আবার ফাইল, এরপর একসময় ছ'টা বাজলে বাড়ি ফেরা, বাচ্চাকে পড়ানো, ডিনার, টিভি, ঘুম, তারপর আবার ভোর ছ'টা, জীবনকে গোলকের গায়ে হেটে বেড়ানো পিপড়ার মত মনে হয় রফিকের।

এক রাতের গল্প

১.
-তুই কই?
মোবাইলে কেউ প্রশ্ন করলে আমি কখনো উত্তর দেইনা। বদলে আমি বলি, 'আপনি ভাল আছেন?'
-ব্যাটা ফাইজলামি করস? হালারপুত, আমি টিটু। কই তুই?
আবার প্রশ্ন। আমি বিগলিত গলায় বলি,
-আসসালামুআলাইকুম। কেমন আছেন টিটু ভাই?
-হারামি, আমার মোবাইলে বেশী ট্যাকা নাই, ফাইজালামি করিস না, হীরা। তোর জন্য ব্যাটা রইদে দাড়াইয়া আছি পাক্কা বিশ মিনিট। আইবি না?
'গু খা ' বলে আমি লাইন কেটে দেই।

কালকে নিয়াজের জন্মদিন। আজ রাতে এই উপলক্ষে পার্টি। রাত বারোটায়, নিয়াজের মেসে।
আমার আর টিটুর উপর দায়িত্ব দুই বোতল মাল কেনার। এক বোতল কেরু আর এক বোতল বিদেশী, যেটা পাওয়া যায়।

টিটুর এসএমএস আসে- 'আমি গ্যালাক্সির সামনে। কাম কুইক।'